Monday, June 19, 2017

ঈদের আগে নগরীর সড়ক সংস্কার হচ্ছে না, গর্ত বন্ধে বিছানো হচ্ছে ইট কেসিসির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ওয়াসার



ঈদের আগে নগরীর ১৮ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে খুলনা ওয়াসা। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কেসিসির অসহযোগিতার কারণে আপাতত কার্পেটিং কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।  গতকাল রোববার ভোর থেকে ইট ও সুড়কি দিয়ে সড়কের গর্তগুলো ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। এতে সড়ক চলাচলের কিছুটা উপযোগী হলেও ভোগান্তি কমছে না।
এদিকে খুলনা ওয়াসার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, টানা বৃষ্টিপাত ও খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) অসহযোগিতার কারণে সড়ক মেরামত কাজ সময়মতো শেষ করা যায়নি। সড়ক সংস্কারের জন্য কেসিসির অ্যাসফল্ট প্লান্ট ব্যবহারের কথা থাকলেও প্লান্ট ব্যবহার করা গেছে মাত্র একদিন। নির্মাণ উপকরণ যাচাইয়ের নামে অহেতুক সময়ক্ষেপণ এবং কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে সড়ক সংস্কার কাজ বার বার পিছিয়ে গেছে। বিষয়টি ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিখিতভাবে কেসিসিকে জানিয়েছেন।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, মোল্লাহাটের মধুমতি নদী থেকে পানি এনে পরিশোধনের মাধ্যমে তা খুলনা নগরীতে সরবরাহ করা হবে। আড়াই হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের নাম ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প’। প্রকল্পের আওতায় গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নগরীর প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক খুঁড়ে বড় পাইপ বসানো হয়। এসব পাইপ ১৬ ইঞ্চি থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত চওড়া। এজন্য সড়কের এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত অংশ খুঁড়ে ফেলতে হয়েছে। পরবর্তীতে মাটি, ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে সড়ক সমান করে দেওয়া হয়। কিন্তু যানবাহন চলার কারণে খোঁড়া সড়ক উঁচু-নিচু এবং অসংখ্য গর্তে ভরে যায়। ভাঙ্গাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরীর মানুষ।
সূত্র জানায়, সড়ক সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করতে নানাভাবে অনুরোধ জানালেও সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়নি। এর কারণ ব্যাখা করে গত ১৫ জুন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠান ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য গত ২৪ মে নগর ভবনে মেয়রের সভাপতিত্বে ওয়াসা, সড়ক বিভাগ ও কেসিসির মধ্যে ত্রিপক্ষীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ওয়াসা কর্তৃক নিয়োজিত বিদেশী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না জিও ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন সড়ক সংস্কারের একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দেয়। সেখানে নগরীর প্রধান ৬টি সড়কের কাজ ২৩ জুনের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু গত ১ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত কেসিসির অ্যাসফল্ট প্লান্টটি বিকল ছিলো। এর আগে প্লান্টটি শিপইয়ার্ড এলাকায় কেসিসির নিজস্ব সড়ক সংস্কার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজে অগ্রগতি হয়নি।’
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আবদুল্লাহ জানান, সড়কের কাজ কেসিসি কর্মকর্তাদের সামনেই করতে হবে-এমন মৌখিক নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিকাল ৩টার পর তারা কেউ থাকেন না। তখন কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। কেসিসির অ্যাসফল্ট প্লান্ট দিয়ে কার্পেটিংয়ের কাজ করার শর্ত রয়েছে। কিন্তু প্লান্টটি গত ২০ দিনে ব্যবহার করতে পেরেছি মাত্র একবার। তাও দেড় ঘণ্টা চলার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, সড়কের কাজ এখন সবচেয়ে জরুরি। এজন্য যেদিন আবহাওয়া ভালো থাকে ওইদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে আমরা বলেছি। কিন্তু সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টার পর কেসিসির কেউ কাজ করতে রাজি হয় না। এই অবস্থায় সময়মতো কাজ করা কিভাবে সম্ভব ?
খুলনা ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক এমডি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, নমুনা পরীক্ষার নামে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। একটি রাস্তার কার্পেটিং কাজে একাধিকবার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।  দেখা যাচ্ছে, নমুনা পরীক্ষার পরদিন বৃষ্টি হলো। তারপর রাস্তা শুকিয়ে আবার পরীক্ষা করা হয়। কেসিসির নিজস্ব সড়কের কাজে এ ধরনের পরীক্ষা করা হয় কি-না জানা নেই।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় ঈদের আগে সব সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করা যেতো না। এজন্য সুড়কি ও বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করে সড়ক চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হচ্ছে। ঈদের পর কেসিসির সঙ্গে বসে ফের কাজ শুরু করা হবে।
ওয়াসার অভিযোগের বিষয়ে কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ওয়াসা অ্যাসফল্ট প্লান্ট চেয়ে পায়নি এ রকম কোনো প্রমাণ কি দিতে পারবে? ওয়াসার এসব অভিযোগ ব্যর্থতা ঢাকার কৌশল।

ঈদের আগে নগরীর সড়ক সংস্কার হচ্ছে না, গর্ত বন্ধে বিছানো হচ্ছে ইট কেসিসির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ওয়াসার

ঈদের আগে নগরীর ১৮ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে খুলনা ওয়াসা। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কেসিসির অসহযোগিতার কারণে আপাতত...